নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ১০ বছর বয়সী বন্যহাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মৃত হাতির কবরের ওপর একটি অস্থায়ী কাঁচা ঘর নির্মাণ করে হত্যাকারীরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বনবিভাগের টহল দলের হাতে উন্মোচিত হয় এই বর্বরোচিত অপরাধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক মাস আগে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মাকাটারঘোনা সংলগ্ন বনাঞ্চলে হাতিটিকে হত্যা করা হয়। অপরাধীরা অত্যন্ত সুকৌশলে বনের ভেতরে হাতিটিকে মাটিচাপা দেয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে কবরের ওপর একটি ছোট কাঁচা ঘর তুলে দেয়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন পার হওয়ার পর মৃতদেহটি পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় বনবিভাগের নলবিলা বিটের বনকর্মীরা এই উৎকট গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে রহস্যময় ঘরটি শনাক্ত করেন। এরপরই বেরিয়ে আসে মাটিচাপা দেওয়া হাতির কঙ্কাল ও দেহাবশেষ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গত বৃহস্পতিবার (২৬শে মার্চ) দুপুরে ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা, চকরিয়া থানা পুলিশ, পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনসহ প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উপস্থিত লোকজনের সামনেই মৃত হাতির ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে বনবিভাগ ও চিকিৎসকের ধারণা, হাতিটিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে আবাদি জমির ফসল খেয়ে ও মাড়িয়ে নষ্ট করার জন্য দায়ী মনে করে দূর্বৃত্তরা হাতিটিকে প্রতিবন্ধকতা মনে করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী নিধন আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বন কর্মকর্তাদের মতে, হাতি হত্যার পর এমন অভিনব কায়দায় ঘর তুলে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চকরিয়ায় এটিই প্রথম। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ও বনবিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে।
Leave a Reply