জিয়াউল হক জিয়া,কক্সবাজারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে অবাধ,সুষ্ঠু,নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মান্নান।
তিনি আরো জানান-গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য জেলাজুড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চারটি আসনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে নিয়োজিত সকল বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয় বলে জানান।
তারই মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের বিএনপির ভূমিধস বিজয় হয়েছে।
বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফলে কক্সবাজার চারটি যারা বিজয়ীরা হলেন—
কক্সবাজার-১ : বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদ।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির স্হায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আলী কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট।তবে এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ভোট।মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৭টি,পোস্টাল ব্যালেট সহ মোট কেন্দ্র ১৭৮টি কেন্দ্র ছিল।
কক্সবাজার-২ : বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক (হাতপাখা) ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭৫৭ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদ এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
তবে আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ৮৭হাজার ৮৫১ভোট।আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল-১২৪টি,পোস্টাল ব্যালেট সহ মোট কেন্দ্র ১২৫টি।
কক্সবাজার-৩ : বিএনপির লুৎফুর রহমান।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (ফুটবল) পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া (আনারস) পেয়েছেন ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার (প্রজাপতি) পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট।
তবে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা-৫লাখ ৪৫হাজার ৯৬৪ভোট।ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮২টি,পোস্টাল ব্যালেট সহ মোট কেন্দ্র ১৮৩টি।
কক্সবাজার-৪ : চ্যালেঞ্জিং লড়াইয়ের শেষে মোঃ শাহজাহান চৌধুরী।
বিএনপির প্রার্থী মোঃ শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক (হাতপাখা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ) পেয়েছেন ৩৭৯ ভোট।
তবে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা-৩লাখ ৭৫হাজার ৬৮৮ভোট।ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৫টি,পোস্টাল ব্যালেট সহ মোট কেন্দ্র হলো ১১৬টি।
সর্বপুরি ভোট পরিদর্শন কালে প্রতিবেদককে হিসাবে দেখেছি,দীর্ঘ ১৭বছর ভোটাধিকার খর্ব আর ঘরবন্দী মানুষ গুলো নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যেতে পারায়,খুশিতে উৎফুল্ল,অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের মুক্ত হয়েছে জানান আগাত ভোটারেরা।ফলে সুন্দর পরিবেশে,হাস্যেজ্জল মুখে,আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
Leave a Reply