নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ৭ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে সোহেল (২৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক সোহেল ওই এলাকার ফররুখ আহমদের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চুরির ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে অভিযুক্ত সোহেল কৌশলে ঘরের দরজার ছিটকিনি খোলে। এরপর বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা মোহাম্মদ এহেছানের ৭ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় উঠানে পা পিছলে পড়ে যায় সে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করে উঠলে তার বাবা-মা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সোহেল শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে অপহরণকারী সোহেলের ফেলে যাওয়া একটি টর্চ লাইট ও হিজাব উদ্ধার করা হয়। এই সূত্র ধরে স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করেন এবং তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার চাচার বাড়ি থেকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোহেলকে আটক করে উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনি দেওয়ার পর তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আটকের পর স্থানীয়রা সোহেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পান। জানা যায়, ওই শিশুকে অপহরণ করে কক্সবাজারের এক ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করার একটি চুক্তি (কন্টাক্ট) হয়েছিল তার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইতিপূর্বেও এই ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় আরেকটি ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের পর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এলাকায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সঠিক আইনের শাসন না থাকায় বারবার এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, স্থানীয় জনতার হাত থেকে সোহেল নামে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অপহরণচেষ্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply