মোঃ নাজমুল হুদা, লামাঃ চকরিয়ার দূর্গম জনপথ বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের SSC পরীক্ষার ফলাফল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত হতাশাজনক। এই ফলাফল শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্যও বেদনাদায়ক ও বিব্রতকর বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত বেশি নয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং স্বীকৃতিহীন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই বিদ্যালয়ের নামে SSC পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কারণে বিদ্যালয়টির ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অত্র বিদ্যালয়ে নানাবিধ অনিয়ম ও দূর্নীতিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে সম্মত হলেন, সেটি তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও মর্যাদার সঙ্গে এমন সিদ্ধান্তের সম্পর্ক কতটা গভীর, সেটি অবশ্যই ভেবে দেখা প্রয়োজন।
আমার নিজেরও এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে খুব অল্প সময়ের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই স্বল্প সময়ে কিছু দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, যা আজও আমার কাছে কষ্টের। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমার মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষা প্রদান এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে যে মাত্রার আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন, তা সবসময় আমি অনুভব করিনি।
একটি বিদ্যালয় শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জায়গা নয়। একটি বিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, শিক্ষকরা কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি কতটা নজর দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে তার ওপর।
অত্র এলাকার কয়েকজন সচেতন মহল জানান, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই এলাকার কোনো মানুষই কোনোভাবেই এই বিদ্যালয়ের খারাপ চান না। আমরা চাই, শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় আমাদের এলাকার গর্ব ও সম্মানের প্রতীক হয়ে উঠুক।
আরও ভুল থাকলে সংশোধন হোক, ঘাটতি থাকলে তা পূরণ হোক। আন্তরিকতার অভাব থাকলে তা ফিরিয়ে আনা হোক।
এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল মোস্তফা ফলাফল বিপর্যয়ল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এবারেন “এসএসসি রেজাল্ট নিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। প্রচেষ্টা কোন ঘাটতি ছিল না। তবুও রেজাল্ট মাত্র ২৯.২৫ শতাংশ। ৫ ই আগষ্টের পর থেকে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় উদাসীন হয়ে গেছে,সাথে যুক্ত হয়েছে গার্ডিয়ানদের অবহেলা। শুধু আমাদের না, সারা দেশে রেজাল্ট বিপর্যয় হয়েছে। ”
এ বিষয়ে বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি, অত্র বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি মনজুরুল কাদের বলেন, এবারের SSC ফলাফলকে শুধুমাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
Leave a Reply