মোঃ নাজমুল হুদা, লামাঃ
বান্দরবানের লামায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুটি কোর্সের পাঠদান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার(১৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
দক্ষতা অর্জনের নতুন সুযোগঃ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ বেকার থাকছেন। এ বাস্তবতায় স্বল্পমেয়াদি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ হিসেবে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে সেলাই প্রশিক্ষণ নারীদের ঘরে বসে বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন পাঠদান শুরুর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক লামা পৌর মেয়র আমির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবু থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ দে এবং শিক্ষানুরাগী মায়েছা মার্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, “লামা উপজেলার ইতিহাসে আজ একটি স্মরণীয় দিন।” তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাঃ লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতায় দক্ষ করে তোলা। লামার ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের পাঠদান শুরু করা হয়। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
Leave a Reply