মোঃ নাজমুল হুদা,বান্দরবানঃ টানা অতিভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় লামা-আলীকদম সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসে রুমা-বগালেক সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় ভ্রমণে পর্যটকদের সাময়িকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে লামা-আলীকদম সড়কের বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে রুমা উপজেলার পেঁপেবাগান এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় রুমা-বগালেক সড়ক এবং বান্দরবান-থানচি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে।
কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা ও টংকাবতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মায়ং ম্রো প্রদীপ জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, রোববার থেকে চলমান ভারী বৃষ্টির কারণে রুমা-বগালেক সড়কের মধ্যবর্তী অংশে পাহাড়ধস হয়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, আলীকদম-লামা সড়কের রেপারপাড়ি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সড়কের ওপর কোমরসমান পানি রয়েছে। কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী ও পর্যটক আটকা পড়েছেন। নৌকার মাধ্যমে তাঁদের পারাপারের চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানি বাড়লেই সড়ক প্লাবিত হয়। এটি ড্রেনেজ সমস্যাজনিত নয়। বৃষ্টি কমলে সড়কের পানিও নেমে যাবে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৮০ মিটার অতিক্রম করে ১১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে ৯ দশমিক ৭২ মিটার উচ্চতায় পৌঁছালেও তা এখনো বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটারের নিচে রয়েছে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, বান্দরবান-থানচি সড়কে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কটি সচল করতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, হেডম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ২২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply