1. coxsbazarshomachar@gmail.com : admin :
সদ্য পাওয়াঃ
বন্যা পরিস্থিতির স্হায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বমু বিলছড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব এর ত্রাণ পেল ৬০০ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে, এনজিও ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাস মওকুফ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও কুমারীছড়া ভাঙন পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “চকরিয়া-মাতামুহুরী” বন্যায় ১৭৮০ পুকুর বা মৎস্যঘের ভেসে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতিঃ চাষিদের মাথায় হাত চকরিয়ায় প্রধান শিক্ষকের ৪ লাখ টাকা ছিনতাই, মারধরের অভিযোগ পশ্চিম পাড়া আনোয়ার মেম্বার এর চাউল পেল ৭০ পরিবার লামায় পাহাড়ধসে নিহতদের পরিবারের পাশে এমপি সাচিং প্রু জেরি বমু বিলছড়িত পশ্চিম পাড়ায় টিপুর উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও চকরিয়া–মাতামুহুরীর দুর্ভোগ কাটেনি: ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

বন্যা পরিস্থিতির স্হায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • পোস্টিং সময় : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জিয়াউল হক জিয়াঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলাকে উপকূলীয় অঞ্চল বলা হয়।এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি,রাস্তাঘাট,বেড়িবাঁধ,কৃষি ফসলি জমি,মৎস্য খামার,গবাদিপশু খামার তলিয়ে যায়।তখন জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়।এসময় পাশ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড় ধসে পড়ে।ফলে শিশু সহ নারী-পুরুষের মৃত্যু ঘটনা ঘটে।
তাই দুইদিনের সফরে নিজ জন্মভূমি ও নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শনে পেকুয়া,মাতামূহুরী ও চকরিয়া উপজেলায় এসে বন্যা কবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেট সংস্কার ও ইজারা বাতিল, খাল-নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না।

শনিবার (১৮ জুলাই) আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর, বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পৃথক পৃথক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা মানবসেবা, দেশের সেবা ও দ্বীনের খেদমত করেন, মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব, আদর্শ ও অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনতা’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের সেবার জন্য কাজ করছি। তাই বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সরকার জনগণের পাশে থাকবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়িই নয়, কৃষক, মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও লবণচাষিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামায় বারবার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পেকুয়ার সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে। স্লুইসগেটগুলো সংস্কার ও প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে লবণাক্ত পানি যাতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, স্লুইসগেটের সব ধরনের লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে। খাল-নদী পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করতে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে। বন্যাকবলিত মানুষের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্ড আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় নয়। ত্রাণ যেন প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

শিলখালী ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেন, শিলখালীবাসীর জন্য বন্যা নতুন নয়। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই বাস্তবতা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। সরকার কৃষি উৎপাদন ও চাষাবাদ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।

টৈটং ইউনিয়নে তিনি বলেন, এ এলাকায় প্রায়ই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ সময় বহুল প্রতীক্ষিত ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ছনুয়া ও রাজাখালী দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের যাতায়াত সহজ করা এবং দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নেও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা,উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ কক্সবাজার সমাচার
Site Customized By NewsTech.Com