জিয়াউল হক জিয়াঃ
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের,ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জাধিন,ডুলাহাজারা বনবিটের অধিন সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে রাতারাতি ১২টি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছে বনখেকোরা।
সংবাদকর্মীদের লেখনি আর প্রতিপক্ষ দখলবাজদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিনদিন আগে মালুমঘাট হাসিনাপাড়া নামক এলাকায় বনভূমি রক্ষায় দিনের বেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ।রাতে ফের দখল আর পুণরায় বাঁশ,পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসেছেন দখলবাজেরা।
সরেজমিনে গেলে নিরপেক্ষ স্হানীয় সচেতন কিছু বাসিন্দারা (নাম প্রকাশে অইচ্ছুক) জানান-চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লাগোয়া পশ্চিম পাশে অর্থাৎ রেললাইনের পূর্বপাশের সদ্য জবর দখলকৃত জায়গাটি গেল সতের বছরে আ’লীগ সরকারের আমলে,আ’লীগ সমর্থিত নেতারা দখল করে রেখেছে।ঝুুপড়ি ঘরের লাগোয়া দক্ষিণে ফোরকান নামের এক অসাধু ভিলেজার আ’লীগ নেতা আর সাবেক এমপির পিএস পরিচয়ে প্রায় দেড় একর জায়গা দখল করেন।এরপর বনবিভাগকে ম্যানেজ আর সাবেক আ’লীগ এমপির ভয় দেখিয়ে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ আর পাঁকা বাউন্ডারি করেছিল।তারই ধারাবাহিকতায় আর কিছু আ’লীগ নেতারা এখন দখলকৃত জায়গা টুকু ভাগবাটোয়ারা দখল রেখেছিল।সরকার পতনের পরে বিএনপি সরকার আসায় সেই পুরাতন প্রথায় কয়েকজন আ’লীগ নেতারা কিছু বিএনপি নেতা মিলেমিশে জায়গা টুকু জবরদখল করে রাতারাতি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছে।ঈষান্বিত হয়ে ওই আ’লীগ নেতার ঝুপড়ি ঘর নির্মাণের অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কর্মকর্তা আর সেই দলভক্ত সংবাদকর্মীর মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায়।
রাজনৈতিক চাপ আর সংবাদকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেছিল বনবিভাগ।কিন্তু সিন্ডিকেট দখলদারেরা রাতে স্বশস্ত্র সজ্জিত হয়ে উচ্ছেদ জায়গায় ঘরগুলো নির্মাণ করেছে। এখন বনবিভাগের কর্ম যাবে কোনদিকে,উচ্ছেদে গেলে হামলার শিকার,উৎকোচ নিলে ভালো,না নিলে খারাপ কর্মকর্তা বনে যাচ্ছে। যতটুকু জেনেছি জবরদখল কৃত জায়গায় থাকা মাদারট্রি গর্জনগুলো রেললাইন স্হাপনের কাজের সময় আ’লীগে ওই এলাকার কয়েকজন নেতারা রাতারাতি কেটে-কুটে পাচার করে লাখ-লাখ টাকার মালিক হয়েছে।ঐসময়ের থাকা বন-কর্মকর্তারা পকেট ভারি করেছে। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলতেন-রেললাইনে পড়া গর্জন গাছগুলো ডিপার্টমেন্ট নিলাম দিয়েছে।ওই গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নারিশ বনের মত মাদার ট্রি গর্জন তখনই গায়েব হয়ে গেছে।
ডুলাহাজারার বনবিট কর্মকর্তা শাহারিয়ার আলম বলেন-হাসিনাপাড়া জায়গার লোক গুলো ভালো না,হিংস্র প্রকৃতির লোক।রাতারাতি জবরদখল করে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছে।পরে আমরা জানতে পেরে উচ্ছেদ অভিযান করে,দখলমুক্ত করি।এখন তারা আরো দখল করেছে,আবারো উচ্ছেদ করার প্রস্তুতি নিয়েছি।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আমিন বলেন-বনভুমি জবরদখলে কোন আপোষ নেই। কিছুদিন আগেও উচ্ছেদ করেছি এবং মামলাও দিয়েছি। এখন আবার করেছে,আবারো উচ্ছেদ করবো এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। বিষয়টি ডিএফও মহোদয়কে অবহিত করেছি,নিদের্শনা মোতাবেক আগাবো,ছাড়া যাবেনা বলে জানান এ কর্মকর্তা।
Leave a Reply