জিয়াউল হক জিয়া,কক্সবাজারঃ
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের,ফুলছড়ি রেঞ্জাধিন ৫টি বনবিটের অধিনে ৩৫জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নস্হ মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটের সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান অফিসে আয়োজিত”হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ,১৯ জুন সকাল ৯টা থেকে আরম্ভ হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়েছে। তবে দুপুরের বিরতিতে লেকে চারা রোপন করা হয় ৩৫টি।
প্রশিক্ষণঃ-অজানা অনেক কিছু শিখেছি প্রশিক্ষণে;যা মনে রাখার মত অভিজ্ঞতা অর্জন ও জ্ঞানারোহন যোগ্য। প্রবাদ আছে-বন্যপ্রাণীরা বনেই সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
হাতিঃ-বনাঞ্চলে যেসব প্রাণী বাস করে।তৎমধ্য”হাতি”সবচেয়ে বড় বন্যপ্রাণী।পৃথিবীর ১৩টি দেশে কেবল হাতি আছে,যা ওই দেশগুলোর বনাঞ্চলে বসবাস করছেন।সেই ১৩টি দেশের মধ্যে আমার বা আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশও একটি।
দেশের কয়কটি অঞ্চলে থাকেনঃ-বাংলাদেশের ১৩টি অঞ্চলে হাতি থাকেন,আছে।
দেশের সেই জায়গা গুলোর নামঃ-চট্রগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগ,কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগ,লামা বনবিভাগ,বান্দরবান বনবিভাগ,খাগড়াছড়ি বনবিভাগ,পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগ,ময়মনসিংহ বনবিভাগ,সিলেট বনবিভাগ,বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রাম ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ,শেরপুর।
হাতি চলাচল দেশে করিডোর’র সংখ্যা ১২ টি।চট্টগ্রামে ৪টি,কক্সবাজার উত্তরে ৫ টি ও কক্সবাজার দক্ষিণে ৩টি রয়েছে।
দেশে কয়প্রকার হাতি আছেঃ-দেশে ৩ প্রকার হাতি আছে। সেগুলো হলো,দেশীয় হাতি,পরিযায়ী হাতি ও পোষা হাতি।
হাতির খাবারঃ-হাতি পানি পান করেন প্রায় আড়াশো লিটার আর খাবার খায় প্রায় ২শত লিটারের মত।
হাতির সংখ্যাঃ-২০১৫ সালের তথ্যমতে দেশীয় হাতির সংখ্যা প্রায় ২৬৬টি,পরিযায়ী হাতির সংখ্যা-প্রায় ১০০টি ও পোষা হাতির সংখ্যা প্রায়-১০০টির মত হবে।হাতি প্রতিদিন খাবার খেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার মত হাঁটাচলা করে।
হাতির আক্রমণে এপর্যন্ত প্রায়-১৫৬জন মত মানুষ আহত হন,নিহত হয়েছে-২৩৭জন ও হাতি মারা গেছে-১২৩টির মতো।হাতি ঘন্টায় হাঁটতে পারে প্রায় ২০ মাইল মতো।
লোকালয়ঃ-তিনটি নিদিষ্ট সময়ে হাতি লোকালয়ে আসেন।একটি আউশধান পাঁকার সময়,লবণাক্ত মৌসুমের সময় আর শীতকালীন ফসলাদি উত্তোলনের সময়।
প্রিয় খাবারঃ-হাতির প্রিয় খাবারের তালিকায় প্রথম হলো,কলাগাছ,দ্বিতীয়ত্ব-বাঁশঝাড় আর কঁচি সবুজ গাছের পাতা আর তৃতীয়ত্ব-কাঁঠাল,করলা,মরিচ,লেবু ও বড়ুই।
হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন উপায় (সংক্ষেপ বাক্য)-
বন্যপ্রাণী হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রধান উপায় হলো হাতির আবাসস্থল রক্ষা ও খাদ্যের সংকট কমানো। বাসস্থান পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি হাতির চলাচলের পথ বা ‘ইকো-করিডোর’ সুরক্ষিত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে এই সংঘাত কমানো সম্ভব। এছাড়াও বনাঞ্চলের ভিতরে হাতির নিরাপদ বিচরক্ষেত্র ও পানির উৎসের সুব্যবস্হা রাখা।যদি বন নির্ভরশীল লোকজন বনাঞ্চলের গাছ কেটে বন উজাড় করে।এভাবে বন পাহাড়কে ন্যাঁড়া করে ফেলে।পাশাপাশি বনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে বন পুড়িয়ে ফেলে।সেই সঙ্গে পাহাড়ের মাটি কাটে আর বন থেকে বালি উত্তোলনের ফলে হাতি চলাচলের চিরচেনা পথের শ্রেণী পরিবর্তন করেন।তখন হাতি খাবারের ছুঁটে আসেন লোকালয়ে।কিট-কিট মেজাজে আসা হাতির পাল,তখন যাকে সামনে পায়,ক্ষোভে ক্ষতি করেন।
ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা: হাতি আপনার ফসল নষ্ট করলে,সরকার কর্তৃক বনবিভাগ তার ক্ষতিপূরণ দেন।মানুষ আহত হলে চিকিৎসা খরচ দেন আর মারা গেলে এককালীন একটি অনুদান দেন,দিয়েই যাচ্ছেন।
হাতির প্রতি অবিচার,অবহেলা,বাঁধা সৃষ্টি, অবৈধ বিদ্যুৎ তারের ফাঁদ বসিয়ে হত্যা আর ভয়ে বিকল্প উপায়ে হত্যা বা আহত করা মানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অমান্য করার সামিল।যার জন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিধিমালা মোতাবেক আইন-১৯ ধারা,৪১ (১) থেকে ৪১(৫) ধারায় জেল জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রশিক্ষণেও আমরা অমনোযোগীঃসকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী হাতি রক্ষা আর বংশ বিস্তার ও আবাসস্থল সম্পর্কিত আলোচনা গুলো কেউ নোট করেনি।কেবল শান্ত্ব মনে,মনোযোগ সহকারে শোনে বটে।সেই মনে খাতায় ধারণকৃত বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিক হিসাবে ছিলেন-হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক,কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ,এস,এম জহির উদ্দিন আকন,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মোঃ মারুফ হোসেন ও সহকারী বনসংরক্ষক শীতল পাল।
শ্রোতার কাতারে-ফুলছড়ির রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুর রহমান,৫জন বিট কর্মকর্তা ও বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,দৈনিক বর্তমান পত্রিকার প্রতিনিধি জিয়াউল হক জিয়া,বিজয় টিভির উপজেলা প্রতিনিধি সেলিম উদ্দিন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আরিফ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জয়নাল ভূট্রো সহ এফজি এবং প্রশিক্ষণার্থীরা।
Leave a Reply