জিয়াউল হক জিয়াঃ
প্রবাদ আছে-বন্যপ্রাণীরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।বনাঞ্চলে হাতির অবাধ বিচরণ মানে জীববৈচিত্র্য সবুজায়ন,বাড়ে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সহ পশুপাখির সংখ্যা।হাতি তৃণভূমিতে বসবাস করে।বর্তমানে এদেশে বনের সবচেয়ে বড় এই প্রাণী বিপন্ন প্রাণীর গণনার তালিকায় নাম লিখাচ্ছে।তাই বৃক্ষ সংরক্ষণ বৃদ্ধিয়ান করতেই,হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিকল্প নেই।তাই সরকার প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে যেসব এলাকায় হাতির স্বাভাবিক বিচরণ বিদ্যামান।সেসব এলাকার মানুষকে হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষে প্রশিক্ষণে ওপর গুরুত্ব দেন।হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জাধিন ৫টি বনবিটের আওতাধিন এলাকার ৩৫জন সচেতন মানুষকে নিয়ে আয়োজিত ৩দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ২১ জুন দুপুর ২টার দিকে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দিনঃ-ট্রেইনার ছিলেন হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক,কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বনসংরক্ষক এ,এস,এম জহির উদ্দিন আকন।
যার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ উত্তাপন করছি-মানুষের প্রয়োজনে হাতি সংরক্ষণ করুণ।জীববৈচিত্র্য সবুজায়নে হাতির গুরুত্ব অপরিসীম।হাতি বনের সবচেয়ে বড় প্রাণী।হাতির স্মৃতি শক্তি খুবই তীক্ষ্ণ,সুচারু।পৃথিবীর তেরটি দেশে হাতি রয়েছেন।তৎমধ্যে বাংলাদেশও হাতি রয়েছে।আমাদের দেশে ৩ ধরণের হাতির বিচরণ বিদ্যামান।তৎমধ্য দেশীয় হাতি,পরিযায়ী হাতি ও পোষা হাতি।সমগ্র দেশে মোট সাড়ে চারশো মত হাতি রয়েছেন।দেশে হাতির ১২টি করিডোর আছেন।তা হলো,চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগে ৪টি,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে ৫টি ও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে ৩টি।এরমধ্যে কয়েকটি করিডোর বন্ধ হয়ে শ্রেণী পরিবর্তন হয়েছে।দেশে শুধুমাত্র একটি ওভারপাস রোড রয়েছে।
হাতির আক্রমণে ২০১৫ থেকে এপর্যন্ত ১৫৬জন,নিহত হন ২৩৭ জন ও মানুষের আক্রমণে হাতি মারা যান ১২৩টির মত (সম্ভবত)।হাতির প্রিয় খাবার হলো,কলাগাছ, বাঁশঝাড় ও কাঠাল।অপ্রিয় খাবার হলো,করলা,লেবু,মরিচ,বরই ও শিম।
হাতি আর মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় হলো,হাতির আবাসস্থল রক্ষা ও খাদ্য সংকট কমানো,মিঠাপানির উৎস সৃষ্টি করা।আবাসস্থল পূণরুদ্ধার সহ হাতি বিচরণ পথ বিনষ্ট না করা।এসব বিষয়ে এলাকার মানুষকে সচেতন করা গেলে,থাকবে হাতি,টিকবে বন।
দ্বিতীয় দিনঃট্রেইনার ছিলেন,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মোঃ মারুফ হোসেন ও দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
উনাদের দিনব্যাপী লেকচারের সারসংক্ষেপ বক্তব্য তুলে ধরলাম।হাতি সংরক্ষণে টিকবে বনাঞ্চল।বাড়বে জীববৈচিত্র্য সবুজায়নের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সম্পদের দৃশ্য।মানুষের প্রয়োজনে হাতিকে সংরক্ষণ উদ্যেগী হোন।একটি হাতি দিনে প্রায় আড়াইশো লিটার পানি পান করেন,খাদ্য আহরণ করে প্রায় দুইশো কেজির মতো।খাবার শেষে যে মল ত্যাগ করে।সেই ত্যাগকৃত দানাদার মল থেকে জন্ম নেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা।তেমনিভাবে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মল থেকে গহীন বনাঞ্চলের ভিতরে নানান গাছপালার জন্ম হয়।যদিও সরকার ৫বছরে ২৫ কোটি চারা রোপন করবে।এই প্রকল্প অলরেডি শুরুও হলো।তবুও বলতে হয়,রোপিত চারা দিয়ে বনাঞ্চল হয় না।তাই হাতি সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মাধ্যমে বনাঞ্চল সৃষ্টির বড় সহায়ক হয়। হাতি দিনে ৪০ থেকে ৬০ কিঃমিটার ঘুরাফেরা করেন।হাতি যুথবদ্ধ পারিবারিক বা দলবদ্ধ হয়ে চিরচেনা পথে বিচরণ করেন।কিন্তু দেশে হাতি বিচরণের যে ১২টি ইকো-করিডোর ছিল তৎমধ্যে দেশের উন্নয়নে সড়ক,সরকারী ভবন এরিয়া করাতে কয়েকটি করিডোর বন্ধ হয়ে পড়েছে।একদিকে হাতির সংখ্যা কমছে,অন্যদিকে বনাঞ্চলের গাছগাছালি উজাড় হয়েছে,হচ্ছে।
হাতির আক্রমণে কারো ফসল নষ্ট হলে,কোন ব্যক্তি আহত আর নিহত হলে,সরকার বনবিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন।যদি কোন মানুষ হাতিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আহত করে বা মেরে ফেলে।সেক্ষেত্রে সরকার কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।সুতরাং হাতি মারা যাবে না।লোকালয়ে হঠাৎ হাতি আসলে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগকে খবর দিলে ইআরটি টিম গিয়ে হাতিকে বনে ফিরাবেন।কোনই ভাবে হাতিকে ঢিল,ইট পাটকেল সহ অন্য উপায়ে উপতত্ত্ব করা যাবে না।তাহলে হাতি আপনার ক্ষতি করবে।হাতি রেগে বুঝবেন,হাতির স্বাভাবিক থাকা কান খাড়া হয়ে পিছনে যাবে,লেজ খাড়া হবে।যদি এমতাবস্থায় খাড়া লেজ নাড়াচাড়া করে,তখন আক্রমণ করবে।যদি কান খাড়া হয়ে সামনের দিকে ঝুকাবে,তখন বুঝবেন সর্তকতা অবলম্বন করছেন।তাই পরিবেশ ও জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বিপন্ন প্রাণীর বিস্তার বাড়াতে পারলে,বনাঞ্চল সবুজায়ন ভরে যাবে।
তৃতীয় দিনঃ-ট্রেইনার ছিলেন,হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের সহকারী পরিচালক ও বন্যপ্রাণী,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম ও এসিএফ শীতল পাল।
এই কর্মকর্তাদের সারসংক্ষেপ বক্তব্যের স্পষ্টতা হলো-দেশের ২৫ কোটি চারা রোপনে হিংসভাগ চারা কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগে রোপিত হবে।তবুও বনাঞ্চল পরিপূর্ণ হবে না।যতক্ষণ না হাতি সংরক্ষণ,হাতির বিচরণ,আবাসস্থল উদ্ধার কাজ না করি।এসব দখল উচ্ছেদ,করিডোর প্রশস্তকরণ নিশ্চিত করলে,হাতির সংখ্যা বাড়বে।ফলে বনাঞ্চল রক্ষা কচব হবে,অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ,জলবায়ূ পরিবর্তন হ্রাসে,জীববৈচিত্র্যের প্রাণের সঞ্চার বাড়বে।
রির্জাভ বনভূমি ও রক্ষিত বনভূমি,সংরক্ষিত বনভূমি পৃথক গুরুত্ব বোঝালেও,জবরদখল,মাটি কাটা,বালি উত্তোলন,গাছকাটা,বনে আগুন লাগিয়ে বন-পোড়াঁনো বন্ধ করতে হবে।তখন বনে হাতির সংখ্যা,বিচরণ বাড়বে,সৃষ্টি হবে গহীন বনাঞ্চল।বন্যপ্রাণীর কমলে,কমবে বৃক্ষ,বন।যদি বনে বন্যপ্রাণী বাড়ে,তাহলে বৃক্ষের সংখ্যা অটো বাড়ে।আমাদের দেশে ১৯টি জাতীয় উদ্যান,১টি উদ্ভিদ উদ্যান আর ২টি সাফারী পার্ক রয়েছে।তবে পোষা হাতি সংরক্ষণের জন্য সরকার চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে একটি আবাসস্থল বেষ্টনী তৈরীর পরিকল্পনা করেছেন।বন নির্ভরশীল মানুষকে বননির্ভরতা কমাতে হবে।বৃক্ষ গজালে,বন হয় সবুজায়ন আর বন থাকলে হাতি সংরক্ষণ হয়,জীববৈচিত্র্যের মানোন্নয়ন হয়।তাই হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সকলে সচেতন হওয়া এবং বনাঞ্চল বসবাসরত মা
Leave a Reply