জিয়াউল হক জিয়াঃ
বৈরী আবহাওয়াতে একটানা চার দিনের ভারিবর্ষণের ফলে মাতামূহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির দিনের পর ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এতে দুই উপজেলার উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। যে কারণে চরম র্দূভোগের শিকার এই অঞ্চলের বসবাসরত বাসিন্দারা।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১.৮০ মিটার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,চকরিয়া উপজেলার বরইতলী,বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা,লক্ষ্যারচর,চিরিংগা, ফাঁসিয়াখালী,কৈয়ারবিল, হারবাং ইউনিয়নের নিচু এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
অপরদিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া,কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের হাজারো ঘরবাড়িতে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এছাড়াও গ্রামীণ কাঁচা ঘরবাড়ি,ফসলি জমি এবং অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
চকরিয়া পৌরশহরের হাসপাতাল পাড়া,থানা সেন্টার ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান,সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন অফিস বৃষ্টির পানির জলবদ্ধতার সৃষ্টির দায়ে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হওয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়।
বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীন দেলোয়ার বলেন,টানা চারদিনের ভারী বর্ষণের ফলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।ফলে দ্রুত জমাট হওয়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সবকটি স্লুইসগেটের কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও মাতামূহুরী নদীতে উজান থেকে আসা ঢলের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।তাই মাইকিং সহ স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে পানিতে আর পাহাড়ি বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।তাছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় প্রশাসনের সব বিভাগকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা চার দিনের ভারিবর্ষণের ফলে নদ-নদী,খাল,ঝিরি,বিলে বৃষ্টির পানি আর ঢলের পানি ভরে গেছে।এছাড়াও দুই দিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছেন।তাই বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে সর্ব-সাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply