1. coxsbazarshomachar@gmail.com : admin :
সদ্য পাওয়াঃ
চকরিয়ায় কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-৩ বন্যা পরিস্থিতির স্হায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বমু বিলছড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব এর ত্রাণ পেল ৬০০ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে, এনজিও ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাস মওকুফ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও কুমারীছড়া ভাঙন পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “চকরিয়া-মাতামুহুরী” বন্যায় ১৭৮০ পুকুর বা মৎস্যঘের ভেসে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতিঃ চাষিদের মাথায় হাত চকরিয়ায় প্রধান শিক্ষকের ৪ লাখ টাকা ছিনতাই, মারধরের অভিযোগ পশ্চিম পাড়া আনোয়ার মেম্বার এর চাউল পেল ৭০ পরিবার লামায় পাহাড়ধসে নিহতদের পরিবারের পাশে এমপি সাচিং প্রু জেরি বমু বিলছড়িত পশ্চিম পাড়ায় টিপুর উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

বাঁশ শ্রমিক আব্বাস উদ্দীনের জীবন সংগ্রামের গল্প

  • পোস্টিং সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মোঃ নাজমুল হুদা লামাঃ পাহাড়ে বাঁশ শ্রমিক মোঃ আব্বাস উদ্দীন (৬৩) এর জীবন সংগ্রামের গল্প হচ্ছে ৩০

বছরের, দীর্ঘদিন কায়িক পরিশ্রমের করে ৭ সদস্যদের পরিবার ঘানি টানছে। প্রতিদিন পাহাড়ি বন জঙ্গলের হিংস্র প্রাণী হতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রাকৃতিক বাঁশ সংগ্রহ করেন। মোঃ আব্বাস উদ্দীনের বাড়ি পেকুয়া উপজেলা সাবেক গোলতি গ্রামে। তার পিতা মৃত মোজাহের আহমেদ, সে প্রতিদিন সকাল ৮ টায় বাড়ি হতে একটি ধারালো দা নিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বান্দরবানের লামা উপজেলার দূর্গম ফাইতং ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ডে ফাদুরঝরির, মিনঝিরিসহ অন্য জায়গায় গভীর বনের ভিতরে একা বাশঁ সংগ্রহ করে আবার বিক্রি করে সংসারের জন্য ডালভাত নিয়ে যাওয়া তার প্রতিদিনের কাজ। মাঝে মধ্যে পাহাড়ের কলার ভিতরে অংশ,বনের অন্যান্য খাবার নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এত এত দূর হতে কখনও লোকাল গাড়িতে অথবা পায়ে হেঁটে পাড়ি দেন। যাওয়া আসা করেন। ফাইতং ফাঁদুরছড়ায় একটি চায়ের দোকানে বাঁশ সংগ্রহ পর চা নাস্তা খেতে এলে প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আজ দুপুরে গরমে পরিশ্রম করার পর ক্লান্ত শরীর, ভঙ্গুর শরীর, মুখে আবুল বিড়ি,একদিকে বয়সের চাপ। পায়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে মাছি ঘিরে ধরছে। প্রশ্ন করলাম? আপনার পায়ে রক্ত কেন উত্তরে বলল, পাহাড়ে বাঁশের আঘাত পেয়েছি। গল্পের চলে সে আরও বলেন আমার ৭ সদস্যের পরিবার ৪ মেয়ে ১ ছেলে ছেলেটা সবার ছোট। এর মধ্য ৩ মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। বিবাহিত মেয়েগুলোকে এসএসসি পাশ করিয়ে কলেজে পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম অর্থে অভাবে আর পড়ালেখা করাতে পারিনি। এখন ছোট মেয়েটি পেকুয়া জিএমসি সকুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

আমি প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে উঁচু পাহাড়ের তলী বা নিচে থেকে ২০ থেকে ৩০ টি বাঁশ সংগ্রহ করে বান্ডিল করে গাড়ির রাস্তায় এনে আবার পেকুয়ায় গিয়ে বিক্রি করি। এক বান্ডিল কাঁচা বাঁশের বিক্রয় মূল্য প্রায় ৭০০/৮০০ টাকা পর্যন্ত পাই। সেখান থেকে দুইশত টাকা যাতায়াত খরচ আছে। বাকি ছয়শত টাকা দিয়ে বাজার হতে কেনাকাটা করে বাড়িতে নিয়ে যাই। বাঁশ প্রতিদিন বিক্রি হয় না। আমি প্রতিদিন বাঁশ সংগ্রহ করতে আসতে নাপারি না। অসুস্থ হলে আসতে পারি না। সেক্ষেত্রে খাবারও জুটে না। যেন জীবনসংগ্রামের পেটের তাগিতে এক উপজেলা হতে অন্য উপজেলায় আসা।

আগে ৩০টি বাঁশে রদাম ২০০/ ৩০০ টাকা বিক্রি হতো, এখন বেশি বিক্রি হয়। সে কথোপকথনে আরও বলেন, দীর্ঘ বছর ৩০ বছর এ কাজ করতে গিয়ে পাহাড়ি বনে একা থাকায় বনে মধ্যে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি প্রাকৃতিক বনে জীবজন্তু তথা বাঘ,ভাল্লুক, হাতি, গোখরা,অজগর সাপসহ অন্যন্য প্রাণীর। ভয় তেমন লাগেনি তবে আমার কাজ আমি করেছি তাদের পথে তারা গেছে। আমি ছোটকাল থেকে এ পেশায় জড়িত। এর আগে ছোটকালে প্রায় ত্রিশ বছর মাতামুহুরী নদীর আড়াকসির কাজ করেছি। আমি নিজে অশিক্ষিত লোক তবে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করানো চেষ্টা করেছি। ৩ নং মেয়েটির সংসারে ঝামেলা চলছে সে বর্তমানে আমার বাড়ি আছেন।

এ বিষয়ে ফাইতং ফাদুরছড়ার এর স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলাম, জাফর আলম, মুজিব জানান, আমরা ফাইতং প্রতিদিন দেখি এই লোকটিকে বাঁশ সংগ্রহ পর বিকালে নিয়ে যান গাড়িতে করে অথবা পায়ে হেঁটে বাইনাছড়া নিয়ে যায়। আমাদের সমাজের এরকম বিভিন্ন পেশায় আব্বাস উদ্দীনের মত অনেক লোক রয়েছে। সেক্ষেত্র উনারমত মানুষের বৃদ্ধ বয়সে হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ কক্সবাজার সমাচার
Site Customized By NewsTech.Com