মোঃ নাজমুল হুদা, লামাঃ বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে টানা অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো লামা।
বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া (পাগলির জিরি) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতভর ভারী বৃষ্টির পর হঠাৎ পাশের পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর এসে পড়ে। এ সময় ঘরের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন।
মুহূর্তেই ঘরটি মাটিচাপা পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
দীর্ঘ চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
টানা বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় নিহতরা হলো- আজিজনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মিশন পাড়ার বাসিন্দা মৃত আদম আলীর ছেলে মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) এবং তাদের ছেলে মো. সোলেমান (৪)।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তারের (২৫) মৃত্যু হয়। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের হালিশহরের রামপুরায়। তারা আজিজনগরের মিশন পাড়ায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন।
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এ সময় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করি।
লামা থানার ওসি মোহাম্মদ কায়ছার হামিদ জানান, এক পরিবারের তিনজন ও আরেক পরিবারের দুজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। লাশগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, পাহাড়ধসে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমরা প্রতিনিয়ত পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরে যেতে মাইকিং করে সবাইকে অনুরোধ করছি।
Leave a Reply